কর্ণফুলীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপে হাইকোর্টের দুই সপ্তাহের নির্দেশ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকাসহ প্রতিবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নদী রক্ষায় দায়ের করা জনস্বার্থের মামলায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) দায়ের করা জনস্বার্থের মামলায় ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একই সঙ্গে নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি এবং সীমানা জরিপ করে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন আদালত। জরিপের ভিত্তিতে কর্ণফুলী নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা ছিল।

তবে আদালতের নির্দেশনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে।

শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০২৩ সালে কর্ণফুলী নদীর সীমানা জরিপ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। ফলে নদীর দখল ও দূষণ অব্যাহত রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ওপর।

শুনানি শেষে আদালত কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা জরিপ সম্পন্ন করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এইচআরপিবির পক্ষে মামলার পিটিশনার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে পরিকল্পনা, নৌপরিবহন, পরিবেশ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ মোট ১৯ জনকে।

বাদীপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শিহাব উদ্দিন খান।