জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দাদেরও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার আওতায় আনা হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) জঙ্গল সলিমপুরে চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আলীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে খোঁজ নেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় জঙ্গল সলিমপুরকে ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ বলা হতো। ৯ মার্চের পর এখানকার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি জানান, এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ছয়টি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলমান এসব কাজের প্রায় ২৫ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সড়কগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হলে মানুষের চলাচল সহজ ও নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াও সহজ হবে।
জঙ্গল সলিমপুরে ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্ভাব্য জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় তিনি এসব স্থান, নির্মাণাধীন বিজিবি ক্যাম্প ও অন্যান্য উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই। এখানকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উন্নত নগরের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস
পরিদর্শনকালে আলীনগর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনসংক্রান্ত জটিলতার কথা জেলা প্রশাসককে জানান।
জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের অর্থ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী মাসগুলোর বেতন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সরকারিভাবে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “এই শিক্ষার্থীরা আমাদের সমাজের প্রাণ। তাদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিন দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০০টি স্কুলব্যাগ, ২০০টি ফলদ গাছের চারা এবং ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে চকলেটও দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা, শিক্ষকদের সম্মান করা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক।
জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে ‘মিথ্যা প্রপাগান্ডা’ ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, এখানকার শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। এসব দেখলে এলাকাটি সম্পর্কে অনেকের ধারণা বদলে যেত।
৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় সহযোগিতার জন্য আলীনগর স্কুল ও এসএম পাইলট স্কুল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থানের জন্য বিদ্যালয় দুটি জায়গা দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন ও সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.