জিয়া স্মৃতি জাদুঘর মেরামত নয়, ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পুনর্গঠন করা হবে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে অত্যন্ত পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী ভবন উল্লেখ করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ভবনটির মূল কাঠামো ও নির্মাণশৈলী অক্ষুণ্ন রেখেই সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি ভবন নয়, দেশের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সাধারণ অর্থে ভবনটি মেরামত না করে এর মৌলিক কাঠামো ও ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে পুনর্গঠন করা হবে। ভবনটি যেভাবে মূলত নির্মাণ করা হয়েছিল, তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রক্রিয়া যথাসম্ভব অক্ষুণ্ন রেখেই সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের পুরোনো ঐতিহ্য ও স্থাপনাগুলো থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। ঐতিহাসিক স্থাপনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

পরে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

সভায় তিনি বলেন, সংস্কৃতি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ ঘটায়। নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি চর্চায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম দেশের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। বাংলা সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান অপরিসীম। নানা কারণে নজরুলের বিশাল সৃষ্টিকর্মের অনেক কিছু এখনো যথাযথভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। নজরুল বর্ষের মূল লক্ষ্য হলো তাঁর সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা।

তিনি জানান, ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংগীত, কবিতা, নাটক ও নৃত্য—এই চারটি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে তা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে সরাসরি প্রতিযোগিতায় পাঠানো হবে না; প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিযোগী নির্বাচন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কয়েকজন বিজয়ী নির্বাচন করাই নজরুল বর্ষের উদ্দেশ্য নয়। বিভিন্ন পর্যায়ে যারা অংশগ্রহণ করবে, তাদেরও সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সংস্কৃতি শুধু গান-বাজনা নয়; মানুষের মনন, চিন্তা, জীবনযাপন, সাহিত্য, বই পড়া, জাদুঘর, ঐতিহ্য, প্রত্নতত্ত্ব, পোশাক, খাবার, রান্না ও পিঠা উৎসব—সবকিছুই সংস্কৃতির অংশ।” তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় ড. সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।