চট্টগ্রামকে তরুণবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় মেয়র শাহাদাতের—

চট্টগ্রামকে আরও উন্মুক্ত, আধুনিক ও তরুণবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, খেলাধুলা, বিনোদন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) অডিটোরিয়ামে গাজী কে ডি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘SSC Reception-26’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তোমরাই এই শহরের সম্পদ, তোমরাই দেশের সম্পদ। তোমাদের জন্য একটি সুন্দর, আধুনিক ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই। তোমরা যেন এই শহরে হাঁটতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, ঘুরতে পারো এবং নিজেদের সৃজনশীলতা বিকশিত করার সুযোগ পাও—সেই পরিবেশ তৈরি করা আমাদের দায়িত্ব।’

নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন তিনি। তখন সারা দেশে মেডিকেল কলেজ ছিল মাত্র আটটি। সীমিত আসনের বিপরীতে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদেরও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেয়র বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিই শেষ নয়। সামনে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। মেধা ও যোগ্যতার পাশাপাশি সততা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম ধারণ করে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে।

মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশে ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে সবসময় মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশে রাখা সম্ভব হয় না। ভবিষ্যতে এমন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তারা দেশে থেকেই নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে পারে।

চট্টগ্রামকে তরুণদের জন্য আরও উপযোগী করে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরীতে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পার্ক, খেলার মাঠ ও হাঁটার স্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব নাগরিক সুবিধা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে তরুণ প্রজন্ম শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও বিনোদনের মধ্য দিয়েও নিজেদের বিকশিত করতে পারে।’

শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি চালুর কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ায় এবং দিনের বেলায় এই মশা বেশি সক্রিয় থাকে। ঘরের পর্দার আড়ালে, আসবাবপত্রের পেছনে ও বিভিন্ন আড়ালযুক্ত স্থানে মশার উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘তোমরা সুস্থ থাকবে, ভালোভাবে পড়াশোনা করবে এবং নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করবে। তোমরাই পারবে চট্টগ্রামকে আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে।’

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে গাজী কে ডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের স্কুলজীবন শেষ করে শিক্ষার্থীরা জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশ ও জাতির জন্য অবদান রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ। এ দেশকে আমরা ভালোবাসি। দেশের জন্য আমাদের কিছু করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

গাজী কে ডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও ইসমিতার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, দৈনিক দেশ বর্তমানের সম্পাদক জমির উদ্দিন, এমসিইওর ফাউন্ডার আইমান সাদিক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. আনিসুল হোসেন বাবুল, কেন্দ্রীয় ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ডা. এস এম সরোয়ার আলম, ব্যবসায়ী সাকিব কাদের চৌধুরী, ডা. সামিউল প্রমুখ।