গ্রেপ্তার নাছির উদ্দীন ধলই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী মডেল থানার বিশেষ অভিযান চলাকালে ধলই ইউনিয়নের এনায়েতপুর বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, পশ্চিম ধলই এলাকার কদল মোহল চৌধুরী বাড়িতে নাছির উদ্দীনের বসতঘরে অবৈধ অস্ত্র মজুদ রয়েছে।
পরে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশক্রমে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ এবং হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে পুলিশের দলটি নাছির উদ্দীনের বাড়িতে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার বসতঘরে আইনানুগ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে নাছির উদ্দীনের দেখানো ও শনাক্তমতে তার শয়নকক্ষে থাকা স্টিলের ওয়ারড্রপের ড্রয়ার থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া একই কক্ষে থাকা স্টিলের আলমারির নিচের ড্রয়ার থেকে একটি ওয়ান শুটারগান (এলজি) ও সাত রাউন্ড তাজা শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কার্তুজগুলোর গায়ে ‘SHAKTIMAN EXPRESS MADE IN INDIA’ লেখা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে নাছির উদ্দীন দাবি করেছেন, তার বন্ধু মো. তৈয়ব (৪৫), যার বাড়ি রাউজান উপজেলায়, প্রায় তিন-চার মাস আগে বিদেশে যাওয়ার সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো তার হেফাজতে রেখে যান। দেশে ফিরে তৈয়ব তার কাছ থেকে এসব অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
এ ঘটনায় পলাতক আসামি মো. তৈয়বকে গ্রেপ্তার এবং উদ্ধার করা অস্ত্রের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নাছির উদ্দীন ও পলাতক মো. তৈয়বের বিরুদ্ধে The Arms Act, 1878-এর ১৯(এ)/১৯(এফ) ধারায় হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।