বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ-কাতার ৭ম যৌথ কমিটির বৈঠক। সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং খাতে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলি বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও কাতারের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক গত কয়েক দশকে আরও গভীর হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানে কাতার সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চার লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী কাতারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। ২০২৩ সালে এক লাখ সাত হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গেছেন উল্লেখ করে তিনি চলতি বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
কাতারগামী কর্মীদের ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সহজ করতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের অনুরোধ জানান মন্ত্রী। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে ৫৫টি ট্রেডে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের আহ্বান জানান।
কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষতার প্রশংসা করে জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় চার লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। তিনি জানান, অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে কাতারে ইতোমধ্যে দুটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
বিভাগীয় শহরে ভিসা সেন্টার বাড়ানোর বিষয়ে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আলি মাহদি সাঈদ আল-কাহতানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।