বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক, দ্রুত টেকসই নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মতামত নিয়ে পুনর্বাসন পরিকল্পনা, স্থানীয়দের সঙ্গে নির্মাণ ব্যয় ও নকশা নিয়ে আলোচনা

চট্টগ্রাম: সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত নিরাপদ ও টেকসই নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। টানা ৭ থেকে ১০ দিন পানি জমে থাকায় এসব এলাকার মাটির তৈরি ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে অনেক পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করছে।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজন, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং কী ধরনের উপকরণ ও নকশায় ঘর নির্মাণ করলে তা তাদের জন্য উপযোগী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত মতামত নেন।

পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বাস্তবসম্মত করতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয়, উপকরণের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি নতুন ঘর নির্মাণের পর সেগুলো দুর্গত পরিবারগুলোর জন্য কতটা উপযোগী হবে, সে বিষয়েও খোঁজ নেন।

এ সময় বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পুনর্বাসনের সার্বিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ও অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও টেকসই নতুন ঘর নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।”

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.