চট্টগ্রামকে ক্লিন সিটি গড়তে পরিচ্ছন্ন বিভাগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজের নির্দেশ মেয়র শাহাদাতের

চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

মেয়র বলেন, সম্প্রতি হঠাৎ করে মুষলধারে বৃষ্টির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের বৃষ্টিতে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পানির প্রবাহের পথ নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে প্রাকৃতিকভাবে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীর ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নয়নে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো তথা হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। কোতোয়ালী, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গতি বাড়াতে হবে। কোথাও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে ওই এলাকায় রোগীর সংখ্যা যাতে বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামে উৎপাদিত বর্জ্যের একটি অংশ খাল-নালায় চলে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যত্রতত্র ময়লা ফেলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা যখন বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করতে যাবেন, তখন নিয়মিত তাঁদের কাছে বর্জ্য হস্তান্তর করার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এতে রাস্তা ও ড্রেন পরিষ্কার থাকবে, মশার উপদ্রব কমবে এবং নগর পরিবেশ সুস্থ থাকবে।

মেয়র জানান, চসিকের দুটি বর্জ্যাগারে জমাকৃত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, গ্রিন ফুয়েল ও জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে নগরীর আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “ক্লিন সিটি” বাস্তবায়ন কেবল পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্ব নয়; এটি নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ দায়িত্ব। শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা কমবে, পরিবেশের মান উন্নত হবে এবং চট্টগ্রাম একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

সভায় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.