খামেনির জানাজায় অংশ নিতে পারেন  সাড়ে ৩ কোটি মানুষ :  জানাজায় যোগ দিতে ইরান গেলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ 

ঢাকা: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি তেহরানের উদ্দেশে রওনা হন। স্পিকারের দপ্তর জানিয়েছে, জানাজা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে মার্কিন হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে। জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশে নজিরবিহীন জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং দেশজুড়ে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ জানাজায় অংশ নিতে পারেন। এছাড়া বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং ১৪ হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইরানজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে স্বল্প সময়ের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।