শিশুর বিকাশে প্রথম ১০০০ দিনের যত্ন নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ভূমিকার তাগিদ

চট্টগ্রাম: শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ও উন্নত জাতি গঠনে গর্ভধারণের আগ থেকে শিশুর জীবনের প্রথম ১ হাজার দিন পর্যন্ত মা ও শিশুর যথাযথ যত্ন, পুষ্টি ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে প্রারম্ভিক শৈশব যত্ন ও বিকাশ (ইসিসিডি) কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় হোটেলে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি), বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) আয়োজিত ‘সেলিব্রেটিং হোল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ: দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক আঞ্চলিক প্রচার ও মতবিনিময় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় শিশুর প্রাক-শৈশব বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের ভাইস-চেয়ার মাহমুদা আখতার। নীতিমালা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর ফারাহ মুনীর।

বক্তারা বলেন, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রাথমিক শিক্ষা, সুরক্ষা এবং সামাজিক ও মানসিক বিকাশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জীবনের প্রথম কয়েক বছরে সঠিক যত্ন ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিশুর ভবিষ্যৎ শেখার সক্ষমতা, সুস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হয়।

তারা বলেন, শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ নিশ্চিত করতে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, শিশুদের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অভিভাবকদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যস্ততার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। শিশুদের মানসিক বিকাশে বাবা-মায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাবাদেরও এসব কার্যক্রমে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

উন্মুক্ত আলোচনায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আহসানউল্লাহ সরকার বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা শুধু অবকাঠামোগত সুবিধা, যেমন র‍্যাম্প তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবন্ধী শিশুদেরও প্রারম্ভিক শৈশব উন্নয়ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি সমন্বয়ক জাহিদুল হক খান, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলীউর রহমান, চ্যানেল আই চট্টগ্রামের বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ এবং স্টার নিউজ ২৪বিডি.কম-এর সম্পাদক এ এফ এম বোরহান।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের যত্নের জন্য পর্যাপ্ত ডে-কেয়ার সেন্টার প্রয়োজন। চাকরি হারানোর ভয় ছাড়াই যাতে কর্মজীবী মায়েরা সন্তানদের যত্ন নিতে পারেন, সে সুযোগ তৈরি করা জরুরি। বর্তমান সরকার এ বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।

কর্মশালায় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্থানীয় পর্যায়ের ইসিডি কমিটির সদস্য, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা শিশু ও পরিবারের কল্যাণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, স্থানীয় পর্যায়ে ইসিডি কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ এবং তথ্য ও গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, ‘ক্যাটালাইজিং হোল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচটি উন্নয়ন ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠান শিশুর সামগ্রিক বিকাশের কার্যক্রমকে জাতীয়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করছে। প্রকল্পটির লার্নিং পার্টনার হিসেবে বিআইজিডি বাস্তবায়ন-অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার ভিত্তিতে ইসিসিডি ব্যবস্থার মূল্যায়ন পরিচালনা করেছে।