চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (সিইপিজেড) এলাকায় চুরির চেষ্টাকালে ধরা পড়া এক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বেপজার নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিইপিজেডের মেসার্স তারিক আজিম টেক্সটাইল লিমিটেড এলাকায় একদল চোর গোপনে প্রবেশ করেছে—এমন খবর পেয়ে বেপজার টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় নিরাপত্তারক্ষীরা ধাওয়া করে আসলাম শেখ (২৪) নামে একজনকে আটক করেন। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়।
আটক আসলাম শেখকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য বেপজার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গাড়িতে করে সিইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির দিকে রওনা হন। পথে সিইপিজেডের বেপজা সিকিউরিটি গেটের প্রায় ২০ মিটার উত্তর-পূর্বে বিডি অ্যাপারেলসের গেটের সামনে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল গাড়ির গতিরোধ করে।
পুলিশের অভিযোগ, হামলাকারীরা গাড়িটি ভাঙচুর করে এবং আটক আসলাম শেখকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বেপজার নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে এবং গাড়ি ভাঙচুরের পর আসলাম শেখকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বেপজার সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও এস্টেট) পাপ্পু দে বাদী হয়ে আসলাম শেখসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে ইপিজেড থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এবং ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল ইপিজেড ও বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে ছিনিয়ে নেওয়া আসলাম শেখসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—আব্দুল কাইয়ুম (৩২), মো. রাশেদ (৩৮) ও মো. রাসেল আলামিন (২৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।