মানবিকে পাস মাত্র ৩৮.৭৯%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন; শতভাগ পাসের স্কুল কমে ২১, শূন্য পাস বেড়ে ৮
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এ বছর এ বোর্ডে পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে মানবিক বিভাগে। এ বিভাগে পাস করেছে মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারাদেশের সঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। গত ২১ এপ্রিল এ বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ১২৩ জন ছাত্র এবং ৫ হাজার ২৭৫ জন ছাত্রী।
পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গত বছর এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এবার তা কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ পয়েন্ট।
এর আগে ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে চলতি বছরের ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ পাসের হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২১৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
মানবিক বিভাগে সবচেয়ে খারাপ ফল
তিন বিভাগেই এবার পাসের হার কমেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে মানবিক বিভাগে। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত বছর মানবিক বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
অর্থাৎ তিন বিভাগের মধ্যে মানবিক বিভাগের ফলাফল সবচেয়ে হতাশাজনক। এ বিভাগের ৬০ শতাংশের বেশি পরীক্ষার্থী এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ফলাফলে এগিয়ে ছাত্রীরা
এবারও পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।
চলতি বছর ৭৪ হাজার ১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৭৫ জন।
অন্যদিকে ৫৬ হাজার ২১৮ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ১২৩ জন।
পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।
পার্বত্য জেলাগুলোতে ফল আরও খারাপ
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পার্বত্য জেলাগুলোর ফলাফলও এবার বেশ হতাশাজনক। সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে খাগড়াছড়িতে। সেখানে পাসের হার মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে খাগড়াছড়িতে পাসের হার কমেছে ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট।
রাঙামাটিতে পাসের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। কক্সবাজারে পাসের হার ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম জেলায় (মহানগরসহ) পাসের হার ৬৪ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার তুলনামূলক বেশি—৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
কমেছে শতভাগ পাসের স্কুল, বেড়েছে শূন্য পাস
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও এবার নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২১টিতে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। ২০২২ সালে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৭১টি।
অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি—এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮টি। গত বছর এমন বিদ্যালয় ছিল মাত্র একটি। এর আগের তিন বছর কোনো বিদ্যালয়ে শূন্য পাসের ঘটনা ছিল না।
এ বছর ১০ শতাংশ বা তার কম পাসের হার রয়েছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।
এ ছাড়া ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পাসের হার রয়েছে—এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর এ শ্রেণিতে ছিল ১৫৩টি বিদ্যালয়। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৮টিতে।
এক বিষয়ে ফেল ২৮ হাজারের বেশি
এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে মোট ৫২ হাজার ৭৫৬ জন পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৭৭১ জন মাত্র একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
অর্থাৎ মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে ফেল করেছে।
এ বছর পরীক্ষায় বহিষ্কার হয়েছে ১০ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল একজন। ২০২৪ সালে কোনো পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়নি। ২০২৩ সালে ১০ জন এবং ২০২২ সালে ৫ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছিল।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ
প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে। আগামী মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।