চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নগর উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। পরিচ্ছন্নতা, সড়ক উন্নয়ন, সবুজায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার নগরীর টাইগারপাস থেকে অক্সিজেন হয়ে ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড থেকে ৪১ নম্বর পতেঙ্গা ওয়ার্ড পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় মেয়র চলমান সৌন্দর্যবর্ধন, বৃক্ষরোপণ, সড়ক সংস্কার, মিডিয়ান উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের গুণগত মান ও বাস্তবায়নের গতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ শেষ করা এবং সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
অক্সিজেন মোড়ে নির্মাণাধীন গোলচত্বরের কাজ পরিদর্শন করে মেয়র দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত নগরীর বিভিন্ন সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।
এ সময় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মিডিয়ান ও আইল্যান্ডে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণ, পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ এবং নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন মেয়র। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব ও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকায়ন নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামকে শুধু অবকাঠামোগতভাবে নয়, পরিবেশগতভাবেও একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে আমরা কাজ করছি। ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের দুর্ভোগ কমিয়ে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই চসিকের অগ্রাধিকার।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত মান বজায় রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে নগরবাসী দ্রুত উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি এবং নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে সৌন্দর্যবর্ধন, বৃক্ষরোপণ, সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়ন করছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে এসব কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে এবং উন্নয়নের সুফল প্রতিটি ওয়ার্ডে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।