ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে: চসিক মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম নগরীর ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও এডাল্টিসাইড ছিটানোর পাশাপাশি নগরবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করা হয়।

কর্মসূচি পরিদর্শনকালে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এডিস মশা দল-মত কিংবা শ্রেণি-পেশা দেখে কামড়ায় না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

                                                                                   

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরীতে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন দীঘি ও জলাশয় সংরক্ষণ করে সেগুলোর চারপাশে হাঁটার ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, ডাস্টবিন ও বসার স্থানসহ পরিবেশবান্ধব সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামকে পর্যটন নগরীতে পরিণত করতে হলে শুধু বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ করলেই হবে না, নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী দীঘিগুলোও সংরক্ষণ করতে হবে। মানুষ যেন এসব জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারে, বসতে পারে এবং সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করতে পারে—সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”

মেয়র জানান, নগরীর বিভিন্ন দীঘির পাড়ে দীর্ঘদিনের মাটি ও আবর্জনা জমে আছে। এসব মাটি অপসারণ করে দীঘিগুলোর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দীঘির চারপাশে ডাস্টবিন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের বসার জন্য সিমেন্টের বেঞ্চ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা বন্ধ করতে হবে। অনেক সময় ভবন থেকে সরাসরি ময়লা-আবর্জনা জলাশয়ে ফেলা হয়। এতে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও মশার প্রজননও বাড়ে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানির বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, প্লাস্টিকের পাত্র, পলিথিন, ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

চসিকের মশক নিধন কার্যক্রমের বিষয়ে মেয়র বলেন, “আমরা স্প্রে করছি, গণসচেতনতা বৃদ্ধি করছি, লিফলেট বিতরণ করছি এবং লার্ভিসাইড প্রয়োগ করছি। সকালে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে এডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে জনগণ সচেতন না হলে শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।”

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বর হলেই ডেঙ্গু হবে এমন নয়। চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া ও প্রস্রাবের সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণেও জ্বর হতে পারে। তবে দুই-তিন দিন ধরে জ্বর অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

মেয়র জানান, চসিক পরিচালিত মেমন হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেমন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল চালু করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করে শিশু ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিটের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়। প্রধানমন্ত্রী, মেয়র কিংবা সিটি কর্পোরেশন এককভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর, নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।