আদিনা মসজিদকে ‘আদিনাথ মন্দির’ দাবিতে নতুন বিতর্ক, শিবলিঙ্গ স্থাপন ও পূজার আয়োজন

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ‘আদিনাথ শিব মন্দির’ দাবি করে শিবলিঙ্গ স্থাপন ও পূজার আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বিধানসভার বাদল অধিবেশনে বিজেপির রাজারহাটের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি আদিনা মসজিদকে মন্দির হিসেবে দাবি করার বিষয়টি উত্থাপন করার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

সোমবার (২৭ জুলাই) প্রায় ৬৫০ বছর পুরোনো এই ঐতিহাসিক স্থাপনার ৫০ মিটারের মধ্যে শিবলিঙ্গ স্থাপন এবং ‘রুদ্রাভিষেক’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সিকান্দার শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই একাংশের দাবি, মসজিদটি একটি প্রাচীন আদিনাথ শিব মন্দিরের ওপর নির্মিত। স্থাপত্যের বিভিন্ন কারুকার্যে হিন্দু দেব-দেবীর প্রতীক ও অলংকরণের উপস্থিতিকে তারা তাদের দাবির পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন।

এ বিষয়ে বর্তমানে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আদিনা মসজিদের সংলগ্ন এলাকায় শিবলিঙ্গ স্থাপন ও পূজার আয়োজন নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

আয়োজনের উদ্যোক্তা কাজল গোস্বামী দাবি করেন, স্থাপত্যটিতে আদিনাথ বা শিবের অস্তিত্বের নানা নিদর্শন রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননে শিব ও দুর্গার মূর্তি উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মূলত একটি প্রাচীন শিব মন্দির এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

অন্যদিকে, আদিনা মসজিদ ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। এর মালিকানা ও ঐতিহাসিক পরিচয় নিয়ে আদালতে বিচারাধীন বিষয় থাকায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে মসজিদ নাকি মন্দির—এ নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়ার নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে।