১০ দিন পর চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁয় পরিদর্শন, হবে মান যাচাই ও গ্রেডিং: ডিসি

চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময়ের মধ্যে রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান পরিচ্ছন্ন রাখা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন এবং খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে হবে।

১০ দিনের সময়সীমা শেষে ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত চারটি দল হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করবে। পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মান যাচাই ও গ্রেডিং করা হবে। নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভায় হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, ব্যবসায়ী, খাদ্যসংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের উদ্দেশ্য জরিমানা করে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়; বরং প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা। প্রয়োজনীয় ঘাটতি দূর করার জন্যই ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে সময়সীমা শেষে নির্ধারিত মান অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা করা হলেও হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাঙ্ক্ষিত মান পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে না। তাই শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চায় জেলা প্রশাসন।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার জরিমানার মাধ্যমে কোনো ব্যবসা করে না। যাঁরা অসৎ পথে ব্যবসা করেন, তাঁদের সংশোধনের পথে নিয়ে আসার জন্যই জরিমানা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা ব্যবসা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হোক—এটি প্রশাসন চায় না। তাই সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের মধ্যে বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও বাড়বে। তাই খাবারের মানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এমন আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে চট্টগ্রামের যেকোনো হোটেল-রেস্তোরাঁয় মানুষ নিশ্চিন্তে খাবার খেতে পারেন।

সভায় জেলা প্রশাসনের চলমান পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’-এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকরা। তারা প্রতি শনিবার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।

চট্টগ্রামকে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবারের ক্ষেত্রে দেশের জন্য উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সুনাম রয়েছে। নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম নেতৃত্ব দিতে পারে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।