বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্টের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়।
সভায় চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু, কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ুয়া, এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট তানভীর আহমেদ, পিডব্লিউসির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদ, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলী হুসেইন, ইতালির অনারারি কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানীসহ চেম্বারের সাবেক ও বর্তমান পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি এবং তাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সম্পর্কে জানতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন সরকার বাংলাদেশ সরকার এবং বিডার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বিনিয়োগ আকর্ষণে Ease of Doing Business নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, বন্দর উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এছাড়া মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালের উন্নয়নেও মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের ঘোষিত চট্টগ্রাম ফ্রি-ট্রেড জোন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুযোগ। এখানে একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে সহজে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকবে। বাংলাদেশ কারও কাছে ভিক্ষা চায় না; বরং পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শক্তিশালী এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।
ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক মার্কিন কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী। ব্যবসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তারা বাংলাদেশের উৎপাদনশীল খাতে মার্কিন প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সুনামের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সামিটে মার্কিন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি কৃষি খাত, বন্ডেড ওয়্যারহাউস, কটন ও ম্যান-মেইড ফাইবার শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভিসা ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সহজ করা, চট্টগ্রামে মার্কিন কনস্যুলার অফিস স্থাপন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।