ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা বহাল

চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে গত ১৫ জুন মামলার শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করা হয়েছিল।

আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির শেষ দিনে গত ১৮ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক রিট আবেদন করলে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। একই সঙ্গে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং তা প্রকাশ করা যাবে না।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। মঙ্গলবারের রায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল।

আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে ভবিষ্যতে নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।