চট্টগ্রামঅফিস :- চট্টগ্রামে বাকলিয়া এলাকায় আলোচিত ৪বছরের এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত| একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে|
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ˆসয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন|
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার নূর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়|
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করলে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা তাকে গণপিটুনি দেওয়ার জন্য নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার দাবি জানায়| এ সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে| বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়| সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন|
পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ কৌশলে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়|
ঘটনার পরদিন ২২ মে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন| পরে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে সে নিজের দোষ ¯ স্বীকার করে ¯ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন| পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়|
মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে পুলিশ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনসহ ৪ জুন আদালতে চার্জসীট জমা দেয়|
৯ জুন মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়| ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয়| ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাদী, ভুক্তভোগী, চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়| ১৬ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত বুধবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন|
ঘটনার ২৭ দিনের মাথায় ৮কর্মদিবসে আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে মামলাটির বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন | এতে রাষ্ট্র পক্ষের নিয়োজিত আসামীর আইনজীবী এড. জিএম জাহেদ হোসেন এবং পিপি এডভোটে মাহমুদুল আলম চৌধুরী মারুপ ও ভিকটিমের মা নানী এই রায়ে খুশি|