চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় আলোচিত চার বছরের শিশু ফারিয়া ধর্ষণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট চূড়ান্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়ার নূর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার বালুর মাঠে অবস্থিত একটি ডেকোরেশন গোডাউনে চার বছরের শিশু ফারিয়াকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে ডেকোরেশন কর্মচারী মনির হোসেন। অভিযুক্ত মনিরের পিতা মোহাম্মদ আলম এবং তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাকলিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে হাজারো বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
পরে রাতে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার পথে কর্ণফুলী সেতু সড়ক এলাকায় আবারও বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ ও জনতার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন যানবাহনে ভাঙচুর চালায়।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় তদন্ত শেষে এবং মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর বাকলিয়া থানা পুলিশ অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, “শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তা আদালতে দাখিল করা হবে।”
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।