চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ হাসপাতাল গড়ে তুলতে উৎসস্থলেই বর্জ্য পৃথকীকরণের কোনো বিকল্প নেই। হাসপাতালের সাধারণ বর্জ্য, চিকিৎসা বর্জ্য, কাঁচ এবং প্লাস্টিকজাত বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ২০০টি বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন হস্তান্তরকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন আহমেদসহ চমেক ও এপিক হেলথকেয়ারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এপিক হেলথকেয়ারের সহযোগিতায় এই বিন বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। হাসপাতালগুলোতে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য পৃথকীকরণের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে রোগী, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ সবাই উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসা বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু বিন বিতরণ নয়, এগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিতরণ করা ২০০টি বিন চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত। এর মধ্যে সাধারণ ও খাদ্য বর্জ্য, চিকিৎসা বর্জ্য, কাঁচজাত বর্জ্য এবং প্লাস্টিক ও পলিথিনজাত বর্জ্যের জন্য পৃথক বিন রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎসস্থলেই বর্জ্য আলাদা করে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, নগরীর সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও টেকসই নগরীতে পরিণত করা সম্ভব। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আরও পরিচ্ছন্ন, মানবিক ও রোগীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সেবামনস্ক মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে মেয়র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের চিকিৎসা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।