চট্টগ্রামে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর), পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য খাতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারে একটি মিডিয়া সেনসিটাইজেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার নগরের লালখান বাজারের পিটস্টপ রেস্তোরাঁয় **”এসআরএইচআর এবং পুষ্টির জন্য নীতিগত সহায়তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মিডিয়া সেনসিটাইজেশন কর্মশালা”** শীর্ষক এ আয়োজন করে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ‘হেলথ সিস্টেম রেজিলিয়েন্স ফর ইমপ্রুভড এসআরএইচআর ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় বাপসা ও মমতার সহযোগিতায় কর্মশালাটি বাস্তবায়িত হয়। এতে সার্বিক সহায়তা দেয় কানাডার হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, একটি টেকসই ও সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্য, অপুষ্টি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ‘ঋতুস্রাব নিয়মিতকরণ’ কর্মসূচি এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ে কার্যকর প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় এনজিওগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহপাঠী প্রশিক্ষক (পিয়ার এডুকেটর) তৈরির বিভিন্ন সাফল্যও তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি, পুষ্টিহীনতা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. কামরুল আজাদ। তিনি মা, নবজাতক ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসআরএইচআরের টিম লিডার শামিমা চৌধুরী তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সঠিক তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, দুর্যোগকালে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধে নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান।
কর্মশালার সমাপনী পর্বে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম কোচি, বাপসার নির্বাহী পরিচালক ড. আলতাফ হোসেন এবং ইপসার পরিচালক নাসিম বানু। তারা একটি শক্তিশালী, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।