ক্যামেরার পেছনে থেকে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করে গেছেন চিত্রসাংবাদিক বাবু: মেয়র
চট্টগ্রাম: ক্যামেরার পেছনে থেকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে গেছেন জ্যেষ্ঠ চিত্রসাংবাদিক মরহুম শামসুল আলম বাবু। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ঐক্য, স্বার্থ ও অধিকার আদায়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (টিসিজেএ) চট্টগ্রামের কার্যালয়ে সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ চিত্রসাংবাদিক শামসুল আলম বাবুর স্মরণে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, শামসুল আলম বাবু ছিলেন অত্যন্ত সৎ, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ। নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আহতও হয়েছিলেন। তাঁর মতো একজন পেশাদার ও সহমর্মী চিত্রসাংবাদিককে হারিয়ে চট্টগ্রামের গণমাধ্যম অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
টিসিজেএ সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চ্যানেল আই চট্টগ্রাম অফিসের ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, নগরীর জামাল খান ওয়ার্ড বিএনপির সদস্যসচিব দিদারুল ইসলাম এবং নিউজ টোয়েন্টিফোর চট্টগ্রাম অফিসের সিনিয়র রিপোর্টার নয়ন বড়ুয়া জয়।
স্মরণসভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন টিসিজেএর সাবেক সভাপতি শফিক আহমেদ সাজিব, আলী আকবর, মোহাম্মদ আলমগীর, সুমন গোস্বামী, মোহাম্মদ মনসুর, হারুন উর রশিদ ও নবাব মিয়া। বক্তারা শামসুল আলম বাবুর কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তাঁর পেশাগত নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও সাংগঠনিক অবদানের কথা স্মরণ করেন।
বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজপথে ঝুঁকি কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও শামসুল আলম বাবু নিজের নীতি ও আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি। তরুণ ও নবীন চিত্রসাংবাদিকদের কাজ শেখানো এবং পেশাগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অভিভাবকের মতো।
তাঁরা আরও বলেন, সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি সহকর্মীদের যেকোনো আপদ-বিপদে সবার আগে এগিয়ে আসতেন শামসুল আলম বাবু। চট্টগ্রামের গণমাধ্যম অঙ্গনে তাঁর অবদান সহকর্মীরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন।
আলোচনা ও স্মৃতিচারণ শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ আহম্মদ উল্লাহ। এ সময় মরহুমের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের শোক সইবার শক্তি কামনা করা হয়।
দোয়া মাহফিলে টিসিজেএর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সংগঠনের সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.