বারবার চউকের সতর্কতার পরও উপেক্ষা, এবার ৪০ লাখ টাকা জরিমানা— ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারকে
চট্টগ্রাম নগরীতে হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট নিরসন ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। বারবার সতর্ক করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় অগ্রগতি না হওয়ায় ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২০ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট ভবন মালিককে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে চউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া সংলগ্ন খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) চউকের অথরাইজড অফিসার-১ এবং স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
চউক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর মেহেদিবাগ থেকে প্রবর্তক হয়ে মির্জাপোল পর্যন্ত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেন্দ্রিক যানজট নিরসনে বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে পার্কিং ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শুধু নির্দেশনা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি চউক। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় যানজট নিরসন ও পার্কিং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
তবে বারবার সতর্ক করা ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরও কয়েকটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।
চউক সূত্র জানায়, গত ৬ আগস্ট ইবনে সিনা হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপর দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর পুনরায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এ সময় পার্কিং ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার হাসপাতালটিতে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২০ লাখ টাকা, সংশ্লিষ্ট ভবন মালিককে ২০ লাখ টাকা এবং সংলগ্ন খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমি পিছু হটার লোক নই। আইন সবাইকে মানতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ার দায়িত্ব দিয়ে এই চেয়ারে বসিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।”
তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং নিশ্চিত করতে হবে। রোগীদের সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন যানজটের দুর্ভোগে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বারবার সতর্ক করার পরও যারা সংশোধন করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীর যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চউকের এ উদ্যোগের লক্ষ্য নগরীর হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পার্কিং ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.