নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক শুরু

নির্বাচনের প্রস্তুতি ও তপশিল নিয়ে আলোচনা; ২২ অক্টোবরের মধ্যেই ভোট আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা

ঢাকা: নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সময়সূচি নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে অনুযায়ী আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সরকার আশা করছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী তপশিলে মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।

বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরাই। আইন অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও থাকতে হবে।

একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট দেবেন। ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন। সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.