সেরা করদাতাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, ২০২৬ নীতিমালায় পুরস্কার পাবেন ৬৭ জন
করদাতাদের যথাযথ সম্মান ও সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে কর প্রদানে আরও উৎসাহিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘সেরা করদাতা পুরস্কার নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন খাতে সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হবে। খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ ২২টি ক্যাটাগরিসহ মোট ৬৭ জন করদাতাকে ‘সেরা করদাতা’ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।
সরকারের মতে, করদাতাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার মাধ্যমে দেশে কর প্রদানের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে এবং স্বেচ্ছায় কর পরিশোধে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কর প্রদানকে সামাজিক মর্যাদা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়, কর ব্যবস্থাকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও করদাতাবান্ধব করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের পাশাপাশি করদাতাদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ করদাতারা আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন, যা অন্য করদাতাদেরও কর প্রদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করছে সরকার।
এদিকে, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
দেশের ৫৫তম এই বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.