চট্টগ্রামে আলোচিত আয়নী হত্যা মামলার রায়, রুবেলের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী মুরগি ফার্ম এলাকায় ১০ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপহরণের অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও অপহরণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল পাহাড়তলীর আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আবিদা সুলতানা আয়নী। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও তার সন্ধান না মেলায় ২৮ মার্চ আদালতে অপহরণ মামলা করেন শিশুটির মা। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে পাহাড়তলী থানা।
মামলায় প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা রুবেলকে আসামি করা হয়। তাকে আটক করার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলীর সাগরিকা বাই লেইন মুরগি ফার্ম এলাকার আলমতারা পুকুরপাড়ের একটি ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্তে পিবিআই জানায়, বিড়ালছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল শিশুটিকে একটি ফাঁকা বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে রাতের আঁধারে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেয়।
গ্রেপ্তারের পর রুবেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং অপহরণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.