শিক্ষক নিয়োগে মেধাকে গুরুত্ব দিতে হবে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক পক্ষপাতের পরিবর্তে মেধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যতটা শুনেছি এবং দেখেছি, সেখানে রাজনৈতিক পক্ষপাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে আমরা যদি শিক্ষক নিয়োগে মেধাকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়োগ দিতে পারি, তাহলে পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা সিট সংকট, আবাসন সমস্যা, লাইব্রেরিতে আসনসংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তুলে ধরেন।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ২০০৮ সালের পর দেশে অনেক বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলোর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের তুলনায় বাংলাদেশে একই ধরনের প্রকল্পে কয়েক গুণ বেশি ব্যয় হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়ে। একটি বালিশ কেনা হয়েছে ৮০ হাজার টাকায়, যার প্রকৃত মূল্য দেড় থেকে দুই হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিট সংকটসহ নানা সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘জিরো টলারেন্স’ শব্দটি বাস্তবে পুরোপুরি অর্জন করা কঠিন। তবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও মানসিক পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, “দুর্নীতি শুধু বড় প্রকল্পেই নয়, দৈনন্দিন অবহেলার মধ্যেও রয়েছে। মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।”

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম। প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.