পুলিশকে জনগণের পক্ষে থাকার শপথ নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার যেন পুলিশ বাহিনীকে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ১৯৭১ সালের মার্চে রাজারবাগে সব পুলিশ সদস্যকে একত্রিত করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কৌশল কী ছিল, তা নিয়ে গবেষণার তাগিদও দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এ শহীদ হওয়া পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং যেসব শহীদ পুলিশ সদস্য দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা সবার পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আমরা আজ নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হই—বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের জনগণ ও দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে।”
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’ এবং ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ স্বাধীনতাকামী মানুষকে চূড়ান্ত লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
এসময় তিনি ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “স্বাধীনতাকামী মানুষের উত্তেজনাপূর্ণ সেই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল বা যুক্তি ছিল, তা মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে।”
দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকারই দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একই ধরনের মানবিক আচরণ দেশের জনগণের প্রতিও প্রত্যাশা করেন তিনি।
এর আগে বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের শেষে প্যারেডে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র্যাবের কর্মকর্তা-সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে ‘বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.