বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত মিড আইল্যান্ড হবে সবুজ ও ফুলে সজ্জিত: মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম: নগরীর বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত সড়কের মিড আইল্যান্ড বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও দৃষ্টিনন্দন গাছ দিয়ে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নগরজুড়ে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।

বুধবার আগ্রাবাদ থেকে লালখানবাজার সড়কে চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদারকি করেন মেয়র। এ সময় বন ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয় সবুজায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে মেয়রকে অবহিত করেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় নগরজুড়ে ১০ লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, মোহরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের সব মিড আইল্যান্ডে ফুল ও সবুজের সমন্বয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানেও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে।

মেয়র বলেন, ইতোমধ্যে বিমানবন্দর সড়ককে বিভিন্ন রঙের ফুলগাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। এছাড়া দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির প্রায় ৬ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। টাইগারপাস থেকে লালখানবাজার পর্যন্তও পাতাবাহারসহ নানা ধরনের দৃষ্টিনন্দন গাছ লাগানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার এবং নিয়মিত পরিচর্যারও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে রোপণ করা গাছগুলো সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার পরিচর্যায়ও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর একটি নগরী। এই নগরীর পাহাড়, নদী, খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল-নদীতে গিয়ে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। তাই কর্ণফুলী, হালদাসহ নগরীর সব খাল ও জলাশয় রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।