ওয়াসিমের পরিবারের জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা, জুলাই শহীদদের স্বজনদের কথা শুনলেন চট্টগ্রামের ডিসি

চট্টগ্রাম: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় তিনি প্রতিটি পরিবারের সদস্যের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন, তাঁদের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শুরু হওয়া এ মতবিনিময় অনুষ্ঠান । অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।

সাক্ষাৎকালে জেলা প্রশাসক প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। তাঁদের সংসারের বর্তমান অবস্থা, সন্তানদের লেখাপড়া, আর্থিক সংকট, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। পাশাপাশি কোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে পৌঁছান চট্টগ্রামের প্রথম এবং দেশের দ্বিতীয় জুলাই শহীদ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের বোন সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা। ততক্ষণে মূল আয়োজন শেষ হলেও জেলা প্রশাসক তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করেননি। তিনি ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যের জন্য অপেক্ষা করেন এবং পরে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা বলেন, “আমি অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু ডিসি স্যার আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন। পরে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তিনি হাসিমুখে আমার কথা শুনেছেন। আমাদের পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসকের এই আন্তরিক আচরণ তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে।

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহ বউবাজার এলাকার শহীদ আলমের স্ত্রী নয়ন বেগম, ঈদগাহ ঝরনাপাড়া এলাকার শহীদ ইউসুফের স্ত্রী সাজেদা আক্তার, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার শহীদ ইশমামুল হকের ভাই মুহিবুল হক, চকবাজার-বাকলিয়া এলাকার শহীদ শহীদুল ইসলামের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, শহীদ ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আক্তার, শহীদ মাহামদুর রহমান সৈকতের চাচা আমজাদ হোসেন, শহীদ জামালের স্ত্রী তসলিমা বেগম এবং শহীদ মাহিনের মা রহিমা।

স্বজন হারানোর পর পরিবারের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে সাজেদা আক্তার বলেন, “ডিসি স্যার জানতে চেয়েছেন আমরা কেমন আছি, সন্তানদের অবস্থা কেমন এবং আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। কোনো সমস্যায় পড়লে তাঁর কাছে যেতে বলেছেন। আমাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।”

শহীদ ইশমামুল হকের ভাই মুহিবুল হক বলেন, “শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা প্রাণ খুলে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।”

হোসনেয়ারা বেগম বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের সব দুঃখ-দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। যেকোনো বিপদে আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শহীদ পরিবারগুলো কখনোই একা নয়। তাঁদের যেকোনো সমস্যা বা জরুরি প্রয়োজনের বিষয়ে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তিনি পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন হলে সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।

স্বজন হারানোর বেদনা কোনো সহায়তা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে শহীদ পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ সময় ধরে কথা শোনা, তাঁদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং দেরিতে পৌঁছানো ওয়াসিম আকরামের বোনের জন্য অপেক্ষা করার ঘটনা প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।