দেশের নৌ খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা, নৌ-নিরাপত্তা জোরদার এবং জেলে ও নৌ-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নৌযান শুমারি-২০২৬। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, শুমারির মাধ্যমে দেশের সমুদ্রগামী ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের সংখ্যা, ধরণ এবং কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। এই তথ্যভান্ডার নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নৌ-দুর্ঘটনা কমানো এবং নৌ-শ্রমিকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে সমন্বয়ের অভাবের কারণে অনেক সময় সম্পদের অপচয় হয়। তাই সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা জরুরি। নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের সঠিক তথ্য দিয়ে শুমারিতে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম নৌযান শুমারি। তাই তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের ভুল বা ত্রুটির সুযোগ নেই। তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাসহ সব স্থান থেকে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সঠিক তথ্যই দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, এই শুমারির মাধ্যমে জেলে ও নৌ-শ্রমিকদের ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব পরিস্থিতি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ভিত্তিতে তাদের কল্যাণে কার্যকর নীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা সহজ হবে।
সেমিনারে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যুগ্ম পরিচালক ওয়াহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।