চ্যাটজিপিটির পরামর্শে মৃত্যুর মুখে; প্রাণে বেঁচে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ অনুসরণ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ এনে ওপেনএআই এবং এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ৫৫ বছর বয়সী পাস্টর স্কট উইন্টার্স।

আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শরীরে গুরুতর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরও চ্যাটজিপিটি তাকে বারবার হাসপাতালে না গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এর ফলে তার দুই ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে প্রাণঘাতী পালমোনারি এমবোলিজম দেখা দেয়। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

মামলার নথি অনুযায়ী, স্কট উইন্টার্স নিয়মিত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নিতেন এবং ধীরে ধীরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এ কারণে পরিবার ও বন্ধুদের হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শও তিনি উপেক্ষা করেন।

উইন্টার্সের দাবি, মাথা ঘোরা ও রক্তচাপের ওঠানামার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চ্যাটজিপিটি তাকে হাঁটাচলা কমিয়ে রিকলাইনার চেয়ারে বিশ্রাম নিতে বলে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করায় তার শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হয়।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, কথোপকথনের একপর্যায়ে চ্যাটজিপিটি চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শের সঙ্গে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রসঙ্গও যুক্ত করে তাকে আশ্বস্ত করে। আদালতে জমা দেওয়া স্ক্রিনশটে এমন কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, চ্যাটজিপিটি কোনো চিকিৎসক নয় এবং এটি কখনোই পেশাদার স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি জানান, এআই ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বুঝতে, প্রশ্ন প্রস্তুত করতে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনায় সহায়তা করতে পারে, তবে চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না।

ওপেনএআইয়ের নীতিমালাতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, চিকিৎসা, আইন, শিক্ষা, আবাসন বা চাকরির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চ্যাটজিপিটিকে কখনোই তথ্যের একমাত্র উৎস হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।