সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। বেশ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে আদালতের জামিনে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি বিএসএমএমইউতেও চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

তার ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, তবে সময় ও স্থান পরে জানানো হবে।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তাঁর বাবা এস রহমান ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং মা পাঞ্জেবুনেছা।

শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ১৯৬৬ সালে লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মিরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।