৩০ আগস্ট লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ডেনমার্কের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর আগামী ৩০ আগস্ট স্থাপন করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন টার্মিনাল’ হিসেবে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। টার্মিনালের ক্রেনগুলো অফিস থেকে দূর নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এতে পরিচালন দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে বন্দর খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আধুনিক এই টার্মিনাল নির্মাণের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্দর অবকাঠামোকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও সক্ষম করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বৈঠকে ডেনমার্কের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার প্রশংসা করে মন্ত্রী বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ডেনমার্ক সরকার এবং দেশটির বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। দেশের বন্দর ও নৌপরিবহন খাতে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।

বৈঠকে এপিএম টার্মিনালসের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশে বন্দর ও টার্মিনাল অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার বিষয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালসহ দেশের বন্দর খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উপস্থিত ছিলেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.