এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ধসে বন্ধ বেইলি সেতু, দুর্ভোগে রাঙ্গুনিয়া-কাউখালীর মানুষ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাহেবনগর এলাকায় একটি বেইলি সেতুর স্টিলের পাটাতন ধসে পড়ায় রাঙ্গুনিয়া ও রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে অতিরিক্ত ইটবোঝাই একটি ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইটবোঝাই ভারী ট্রাকটি সেতুর মাঝখানে পৌঁছামাত্র বিকট শব্দে স্টিলের পাটাতন ভেঙে পড়ে। এতে ট্রাকটি সেতুর ওপর আটকে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানবাহন আটকে পড়ায় সাধারণ যাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অফিসগামী, ব্যবসায়ী, চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এদিন সাপ্তাহিক হাট থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
এর আগে গত শনিবারও অতিরিক্ত ইটবোঝাই একটি ট্রাক সেতুটি পার হওয়ার সময় পাটাতন ধসে পড়ে একদিনের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে নামমাত্র মেরামত করেই দায় সেরেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুই উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, পাঁচ টনের বেশি পণ্যবোঝাই যানবাহন বেইলি সেতুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার সতর্কতা ও মেরামতের পরও কিছু চালক নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন নিয়ে চলাচল করায় এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। ট্রাকের মালামাল নামানোর পর সেতু মেরামত করে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থায়ী সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ প্রকল্পের কার্যাদেশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষা শেষে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। ততদিন পর্যন্ত পাঁচ টনের বেশি পণ্যবোঝাই যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.