এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে গড়েছিলেন খামার : আগুনে ২৪ টি গরু-ছাগল জীবন্ত দগ্ধ
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নে একটি গরু-ছাগলের খামারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৪টি গবাদিপশু পুড়ে মারা গেছে। একই ঘটনায় খামারের পাশে থাকা আরও পাঁচটি দোকানঘরও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে ইলিয়াস ব্রাদার্স সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে হাবিবুর রহমান পিন্টুর মালিকানাধীন ‘মা-বাবার দোয়া এগ্রো ফার্ম’-এ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খামার মালিক হাবিবুর রহমান পিন্টু জানান, স্থানীয় এনজিও সংস্থা ও BRAC Bank থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি খামারটি গড়ে তুলেছিলেন। খামারে ১২টি গরু ও ১৩টি ছাগল ছিল। আগুন লাগার পর মাত্র একটি গরু বের করা সম্ভব হলেও বাকি ১১টি গরু ও ১৩টি ছাগল আগুনে পুড়ে মারা যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, আগুন লাগার পর দ্রুত খবর দেওয়া হলেও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
খামারটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লিটার দুধ বিক্রি করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখন সব হারিয়ে আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি।”
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, আগুনে খামার ছাড়াও কয়েকটি দোকান পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার হওয়ায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এর আগেই খামার ও গবাদিপশুগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, ফলে খামার মালিকসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.