এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পেলে এমপি পদ ছেড়ে দেবো: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদ

'১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডের সাথে ব্যবসা শুরু করেন আমার পিতা'

৪০

সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও বর্তমান ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি বলেছেন, আমি ভূমি মন্ত্রী থাকা কালে মন্ত্রীর চেয়ার ব্যবহার করে কোনো অন্যায় করিনি। আমি মন্ত্রী থাকার সময় কোনো দুর্নীতি করেছি কিনা এই বিষয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি করা হোক। একজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, একজন সাংবাদিক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি দিয়ে যদি কমিটি করা হয় তাহলে আমি খুশি হবো। আমি মন্ত্রী থাকার সময় কী করেছি, এটা পরিষ্কার করা হোক। এটা আমার জন্য খুব উপকার হবে। এই কমিটি যদি আমার বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতি পায়, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি, আমি আমার এমপির পদ ছেড়ে দেবো। আমি খুবই পরিষ্কার মানুষ।

শনিবার (২ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, গত কিছুদিন ধরে আমাকে নিয়ে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মিডিয়ায় বেশ কিছু নিউজ হয়েছে । অনেকের প্রশ্ন এই নিউজগুলো প্রচার হলো, তখন আমি কেন নীরব ছিলাম? আসলে আমি তখন দেশের বাইরে ছিলাম। দেশের বাইরে থাকার সময় আমাকে নিয়ে নিউজ গুলো এসেছে। আমি তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, দেশে এসে আমি সংবাদ সম্মেলন করবো। যেহেতু আমি রাজনীতি করি, একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলাম, সততার সাথে নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। ভূমি মন্ত্রণালয়কে একটি ডিজিটাল এবং স্মার্ট মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত করেছি। এর সুফল দেশের মানুষ পেতে শুরু করেছে।

সাইফুজ্জামান জৌধুরী জাবেদ এমপি আরো বলেন, আমি সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ করবো, আমার ব্যবসা এবং রাজনীতি, দুটোকে মিক্সড করবেন না। আমি ব্যবসায়ী কাম রাজনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ কাম ব্যবসায়ী নই। পারিবারিক সূত্রেও আমি ব্যবসায়ী। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে আমি ব্যবসা করে আসছি। আমি আমার ব্যবসায়ীক ক্যারিয়ার শুরু করেছি আমেরিকায় যখন লেখাপড়া করছি তখন থেকে।

সাবেক এই মন্ত্রী আরো বলেন, নিউজগুলোতে আমার হলফনামা নিয়ে কথা এসেছে। আমি হলফনামায় কোন তথ্য গোপন করেনি। আমি জানি না বার বার কেন এই কথা লিখা হচ্ছে। আমি আগেও বারবার পরিষ্কার করেছি, আমি কোনো তথ্য গোপন করিনি। নির্বাচনের সময়ে যে হলফনামা দিতে হয়, সেটি ট্যাক্স রিটার্নের সঙ্গে মিল রেখে হলফনামা করতে হয়। আমি সর্বশেষ চতুর্থবার নির্বাচন করেছি। বিগত দিনে আমি যেভাবে আমার হলফনামাগুলো দিয়েছিলাম, এবারও সেভাবে দিয়েছি। ওই হলফনামায় কোথাও বিদেশের সম্পত্তি উল্লেখ করার কলাম নেই । যেহেতু বিদেশের সম্পত্তি উল্লেখ করার জন্য কোনো কলাম নেই এবং বিগত নির্বাচনেও আমি এই বিষয়ে কোনো তথ্য দি নাই । সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, আমি আমার বিদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সেভাবে মিক্সড করিনি। কারণ বাংলাদেশে আমার আলাদা ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল আছে, ইউকেতেও আলাদা ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল আছে। ওই ট্যাক্স রিটার্নগুলো আমি মিক্সড করিনি। আমি মনে করেছি, যেহেতু এটি হলফনামার কলামে নেই, আমি শুধু শুধু বাড়তি কথা কেন বলতে যাবো ? সে কারণে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছাড়াই আমি এটা করেছি।

তিনি আরো বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ে থাকার সময় আমি যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে করেছি, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি। আমার যদি খারাপ উদ্দেশ্য থাকতো আমি কখনোই এগুলো করতাম না। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ আমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে জাতি এবং দেশকে দেওয়ার জন্য, নেওয়ার জন্য নয়।

তিনি বলেন, আমি আমেরিকায় পড়াশুনা করেছি আশির দশকে। যেহেতু আমার বাবা ইংল্যান্ডের সঙ্গে ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করেন ১৯৬৭ সালে। আমার পড়াশুনা যখন শেষ পর্যায়ে তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিদেশে আমাদের যে পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে সেখান থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আন্তর্জাতিক ব্যবসা করবো। ওই সূত্র থেকে আমাদের ব্যবসা শুরু। ছোট বেলা থেকেই আমাদের লন্ডন-আমেরিকায় বাড়ি-ঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। আমাদের ট্রেডিং ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, সুপার মার্কেট, রিয়েল এস্টেট এমন অনেক ব্যবসা ছিল। সেখান থেকে আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ হয়েছে। আমি বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা বিদেশি নেইনি। বাংলাদেশ থেকে যদি কোনো টাকা নিতাম অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি নিতাম। যদি অনুমতি না নিয়ে বিদেশে টাকা নিতাম, তাহলে আমার অপরাধবোধ হতো। আমি তো কোন অপরাধ করিনাই।

তিনি আরো বলেন, আমার ব্যবসায়ীক ক্যারিয়ার ১৯৯১ সালের আগে, আমার ব্যবসায়ীক ক্যারিয়ার প্রায় ৩৫ বছরের উপরে। আর আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ১১-১২ বছর। আমার ব্যবসায়ীক ক্যারিয়ার এর থেকে অনেক বেশি। মন্ত্রী থাকার সময় কোনো দুর্নীতি করেছেন কি না সে বিষয়ে তদন্ত করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের আহŸান জানান তিনি । ওই কমিটি যদি আমার এক টাকারও দুর্নীতির প্রমাণ পায়, তাহলে আমি পদত্যাগ করব।

ভূমি মন্ত্রী থাকা কালে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ব্রিটেনে ‘হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ’ আছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে আজ ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

 

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.