“বাবা, আমি কি আবার স্কুলে যেতে পারব?”—১০ বছরের অতুনের বাঁচার আকুতি, প্রয়োজন ৩০ লাখ টাকা
যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে ছুটে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে খেলায় মেতে ওঠার কথা, বাবা-মায়ের হাত ধরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার কথা—সেই বয়সেই জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াইয়ে নেমেছে ১০ বছরের শিশু অতুন চক্রবর্তী।
অতুনের শরীরে বাসা বেঁধেছে Diffuse Large B-Cell Lymphoma (DLBCL), non-germinal centre type—একটি জটিল ও প্রাণঘাতী রক্তের ক্যানসার। ছোট্ট এই শিশুটির চিকিৎসা চলছে ভারতের মুম্বাইয়ের Jaslok Hospital & Research Centre-এ। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থেকেও অতুনের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। বরং সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা।
অতুন চক্রবর্তীর বাবা রঞ্জন চক্রবর্তী এবং মা মনি চক্রবর্তী। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তারা প্রতিদিন নতুন করে সাহস সঞ্চয় করছেন। কিন্তু সন্তানের জীবন বাঁচানোর এই লড়াইয়ে অর্থের কাছে আজ তারা প্রায় অসহায়।
চার সাইকেল কেমোথেরাপির পরও কাটেনি শঙ্কা
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অতুনের শরীরে প্রথমে পেটে ও ফুসফুসের চারপাশে পানি জমে যায়। পরবর্তীতে বায়োপসি পরীক্ষার মাধ্যমে Large B-Cell Lymphoma শনাক্ত হলে চিকিৎসা শুরু হয়। এর আগে চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। উন্নত চিকিৎসার আশায় পরে তাকে ভারতের মুম্বাইয়ে নেওয়া হয়।
ইতোমধ্যে অতুনকে চার সাইকেল কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসায় সাময়িকভাবে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরবর্তী FDG PET/CT পরীক্ষায় বুকের বিভিন্ন লিম্ফ নোড, ফুসফুসের আবরণ, পেটের ভেতরের বিভিন্ন অংশ এবং পেলভিসে এখনও সক্রিয় রোগের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় পেলভিসে একটি বড় সফট-টিস্যু মাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, চার দফা কেমোথেরাপির ধকল সহ্য করার পরও অতুনের শরীর থেকে ভয়ংকর রোগটি পুরোপুরি বিদায় নেয়নি।
ইতোমধ্যে খরচ ৪৭ লাখ, সামনে আরও ২৫–৩০ লাখ
সন্তানের চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছে পরিবারটি। ধারদেনা, সঞ্চয় ও পরিচিতজনদের সহায়তায় এতদিন চিকিৎসা চালিয়ে এলেও এখন তাদের আর্থিক সামর্থ্য প্রায় শেষ।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, অতুনকে আরও দুটি কেমোথেরাপি সাইকেল দিতে হবে। এরপর তার জন্য দ্রুত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট (BMT) করার প্রয়োজন হতে পারে। এই চিকিৎসা সম্পন্ন করতে আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে পরিবার জানিয়েছে।
একদিকে সন্তানের জীবন বাঁচানোর আকুতি, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল খরচ—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আজ দিশেহারা অতুনের বাবা-মা।
অতুন কি আবার স্কুলে ফিরতে পারবে?
অতুনের বাবা-মায়ের একটাই স্বপ্ন—তাদের সন্তান সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। আবার স্কুলের পোশাক পরুক, বই-খাতা হাতে নিক, বন্ধুদের সঙ্গে খেলুক, হাসুক।
কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে এখন প্রয়োজন মানুষের সহযোগিতা।
আপনার কাছে হয়তো কয়েকশ বা কয়েক হাজার টাকা খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু অতুনের মতো একটি শিশুর জন্য আপনার সেই সামান্য সহায়তাই হতে পারে জীবন ফিরে পাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।
হয়তো আপনার দেওয়া অর্থে অতুনের আরেকটি কেমোথেরাপি হবে।
হয়তো আপনার একটি শেয়ারের মাধ্যমে আবেদনটি এমন একজন মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে, যিনি অতুনের চিকিৎসার বড় একটি অংশের দায়িত্ব নিতে পারবেন।
হয়তো আপনার সামান্য সহযোগিতাই অতুনের বাবা-মায়ের চোখের জল মুছে দিয়ে তাদের সন্তানের জন্য নতুন আশার আলো জ্বালাবে।
আসুন, অর্থ দিয়ে না পারলেও অন্তত এই আবেদনটি শেয়ার করে অতুনের পাশে দাঁড়াই।
১০ বছরের একটি শিশুর জীবন যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়।
অতুন যেন আবার স্কুলে ফিরতে পারে, আবার খেলতে পারে, আবার তার বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারে—“আমি ভালো হয়ে গেছি।”
অতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অতুনের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন তার বাবা-মা।
সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম
ব্যাংক: প্রাইম ব্যাংক (Prime Bank), লালদীঘি পূর্ব শাখা
হিসাবের নাম: RANJAN CHAKRABORTY
হিসাব নম্বর: 2145212007406
বিকাশ: 01776520004 (মনি চক্রবর্তী)
যোগাযোগ
রঞ্জন চক্রবর্তী (পিতা): +880 1670-481435
মনি চক্রবর্তী (মাতা): 01776520004
অতুনের জন্য আপনাদের কাছে একটাই অনুরোধ—সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ান, দোয়া করুন এবং আবেদনটি বেশি বেশি শেয়ার করুন।
একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর এই লড়াইয়ে আপনার ছোট্ট সহযোগিতাই হতে পারে অতুনের পরিবারের সবচেয়ে বড় আশার আলো।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.