ডবলমুরিংয়ে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ব্যাংকারের আত্মহত্যা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানাধীন দাইয়্যাপাড়ায় নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও তরুণ ব্যাংকার ইফতেখার হোসেন সাহিদ ওরফে এম আই হোসেন সাহিদ। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার সকালে শ্বশুরবাড়ির ড্রয়িংরুমে এ ঘটনা ঘটে। সকাল পৌনে ৮টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত হোসেন সাহিদ দাইয়্যাপাড়া এলাকার মৃত ইকবাল হোসেনের ছেলে। তিনি আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া সাহিদকে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার বন্ধুরা।
বন্ধুদের দাবি, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সময় নিয়মিত বেতন পেতেন না সাহিদ। কয়েক মাস পরপর বেতনের একটি অংশ পেতেন। এর মধ্যে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বদলি করা হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে তিনি পারিবারিক ও আর্থিক সংকটে পড়েন বলে জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের সংকটের প্রভাব তার চাকরি ও আয়ের ওপর পড়ে। চাকরি ছাড়ার পর পরিবারে আর্থিক ও পারিবারিক অস্থিরতা তৈরি হয়। সাহিদের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। তার স্ত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বন্ধুদের আরও দাবি, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে বিভিন্ন সময় পুলিশি তৎপরতা ও বাড়িতে হানা দেওয়ার ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। এসব পারিবারিক, আর্থিক ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা। তবে আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ব্যবহৃত পিস্তলটি কোথা থেকে এসেছে, সেটি সাহিদের নিজের ছিল কি না, নাকি বাইরে থেকে আনা হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.