অর্থবিল ২০২৬ নিয়ে চট্টগ্রামে এসএমএসি’র সেমিনার, কর সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশে গুরুত্বারোপ

‘অর্থবিল ২০২৬’ এবং ব্যবসা, ব্যক্তি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে চট্টগ্রামে একটি তথ্যবহুল সেমিনারের আয়োজন করেছে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেড। সোমবার নগরীর রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে করনীতি সংস্কার, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক জেরিন মাহমুদ হোসেন, এফসিএ। তিনি অর্থবিল ২০২৬-এর গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে সেমিনারের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া, এফসিএ। তিনি অর্থবিল ২০২৬-এ অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন কর, ভ্যাট, শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্কারের বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, নতুন অর্থবিলে রাজস্ব আদায় জোরদার, কর কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি এবং কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে করপোরেট ও ব্যক্তিশ্রেণীর কর হারে পরিবর্তন, স্টার্টআপ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রণোদনা সম্প্রসারণ, উৎসে কর ব্যবস্থার যৌক্তিকীকরণ, ন্যূনতম কর ব্যবস্থার বিলোপ এবং সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম কর ক্রেডিটের মাধ্যমে রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজ করা। পাশাপাশি করের আওতা বৃদ্ধি, বিরোধ নিষ্পত্তি সহজীকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনায় দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর কর্মকর্তারা অংশ নেন। তাঁরা অর্থবিলের সম্ভাব্য প্রভাব, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং বিভিন্ন খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে থাইল্যান্ডের চট্টগ্রামস্থ অনারারি কনসাল ও চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে বাজেটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি প্রস্তাবিত কর প্রণোদনার সম্ভাব্য সুফলের বিষয়েও আলোকপাত করেন।

সেনসিভ (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মইনুল ইসলাম মাহমুদ বাজেটের বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে টেকসই প্রবৃদ্ধি, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য বিচক্ষণ রাজস্ব নীতি ও বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর কমিশনার সাধন কুমার রায় সংশোধিত কর নীতিমালার বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে কর সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং দেশপ্রেমের চেতনায় কর প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সেমিনারে বক্তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ কর, ভ্যাট ও শুল্ক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা মত দেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে সুকান্ত ভট্টাচার্য, এফসিএ অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতা, কর বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সফল আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.