খাল খননের মাটি দিয়ে ইট উৎপাদনের প্রস্তাব: আবাদি জমি রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের অঙ্গীকার –চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

১০

রোববার (৩ মে) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এ সময় বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে সরকারের সব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। নির্বাচনী ইশতেহারের কার্যক্রম ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে শুরু হয়েছে এবং তা নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানান, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, খাদ্য নিরাপত্তায় খাল খনন, পরিবেশ উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।
তিনি আরও বলেন, সাপ্তাহিক গণশুনানি সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। জনগণের প্রতি সহমর্মিতা বজায় রেখে আইন ও বিধিবিধান অনুসরণে কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। দেশে ইট উৎপাদনে ব্যবহৃত উর্বর টপসয়েলের বিকল্প হিসেবে খাল খননের মাটি ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
তার তথ্যমতে, বছরে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ইট উৎপাদনে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৩ কোটি মেট্রিক টন মাটি, যা প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে সংগ্রহ করা সম্ভব। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে উর্বর কৃষিজমি রক্ষা পাবে এবং টপসয়েলের ক্ষতি কমবে।
তিনি আবাদি জমি রক্ষায় উল্লম্বভাবে গৃহনির্মাণে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা এবং কৃষিজমিতে গৃহনির্মাণ নিরুৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাবও দেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে টপসয়েল ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রেও খাল খননের মাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৭১ সালে দেশে আবাদি জমি ছিল প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ হেক্টর, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮ দশমিক ২৯ লাখ হেক্টরে। একই সময়ে জনসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৮ কোটিতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কৃষিশুমারি ২০১৯ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আবাদি জমি কমেছে ১ লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর। গত ১০ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই ২৩ হাজার ২৭ দশমিক ৮৬ হেক্টর জমি অকৃষি খাতে চলে গেছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখ টন উর্বর টপসয়েল ইট উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.