জব্বারের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা ২৪–২৫ এপ্রিল: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের সিদ্ধান্ত
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বার স্মৃতি বলী খেলার ১১৭তম আসর ও দেশের বৃহত্তম বৈশাখী মেলা উপলক্ষে নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, আগামী ১২ বৈশাখ (২৫ এপ্রিল) বলী খেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং এর সঙ্গে বৈশাখী মেলা চলবে ২৪ ও ২৫ এপ্রিল—দুই দিনব্যাপী।
মঙ্গলবার দামপাড়াস্থ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। এতে মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আয়োজক কমিটি, র্যাব, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২৬ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা এবং পাশের মুসলিম হাই স্কুলে পরীক্ষা কেন্দ্র থাকায় মেলা রোববার ভোরের মধ্যে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকছে—মূল ভেন্যুতে কড়া নিরাপত্তা, ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, ফুট পেট্রোল ও পিকেট ডিউটি, রুফটপ নজরদারি, ডিবি টিম মোতায়েন, স্পেশাল রিজার্ভ পুলিশ, কুইক রেসপন্স টিম, সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড (কে-নাইন), স্ট্যান্ডবাই ফোর্স এবং র্যাবের বিশেষ টিম।
যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সিএমপি সদর দপ্তর থেকে জেলা পরিষদ মার্কেট হয়ে সিনেমা প্যালেস পর্যন্ত এবং কোতোয়ালী থানা সড়ক মেলার জন্য বন্ধ না রেখে উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সড়কে কোনো অবস্থাতেই মেলা বসতে দেওয়া হবে না।
মেলায় চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, অশ্লীল গান-নৃত্য নিষিদ্ধ এবং কোনো ধরনের জুয়ার আসর না বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার আহ্বান জানানো হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোন ওড়াতে সিএমপির পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা এবং লালদিঘী মাঠ বা সুবিধাজনক স্থানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি স্ট্যান্ডবাই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এবারের বলী খেলার প্রধান স্পন্সর হিসেবে রয়েছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা, র্যাব প্রতিনিধি এবং আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.