এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামের হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুনের মত
চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করাও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। চিকিৎসকের জ্ঞান সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগের দূরত্বও কমানো সম্ভব।
এমন মত প্রকাশ করেছেন এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামের হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন।
এক নিবন্ধে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক বছরের পর বছর পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ ও রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কিন্তু সেই জ্ঞান কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ কোন লক্ষণকে গুরুত্ব দেবেন, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কিংবা স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রচলিত কোন ধারণাটি ভুল—এসব বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা প্রয়োজন।
মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুনের মতে, চিকিৎসকের জ্ঞান যদি শুধু চিকিৎসাকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তার একটি বড় অংশ সাধারণ মানুষের কাছে অজানা থেকে যেতে পারে। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের যথার্থতা বজায় রেখে জটিল বিষয়গুলো সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি রোগ, শিশুর স্বাস্থ্য কিংবা স্নায়ুরোগের মতো বিভিন্ন বিষয়ে চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। কোন বিষয়গুলো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, কোন লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয় এবং কখন পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শ প্রয়োজন—এসব তথ্য সহজভাবে তুলে ধরা জরুরি।
স্বাস্থ্যবিষয়ক যোগাযোগের উদ্দেশ্য শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষকে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব বোঝানো। একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য কতজন দেখেছেন, তার পাশাপাশি মানুষ সেটি কতটা বুঝতে পেরেছেন, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসকের সাক্ষাৎকার, স্বাস্থ্যবিষয়ক নিবন্ধ, প্রশ্নোত্তর, ছোট ভিডিও এবং হাসপাতালের ওয়েবসাইটে সহজ ভাষায় তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে চিকিৎসকদের জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কোনো রোগের লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করা, একটি লক্ষণকে নির্দিষ্ট রোগের নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে অতিরঞ্জিত দাবি করা উচিত নয়।
তিনি মনে করেন, একই লক্ষণ বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে এবং প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনও এক নয়। তাই স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্টে স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে সাধারণ তথ্য ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।
মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করতে চিকিৎসক, জনসংযোগ, ডিজিটাল ও কনটেন্ট টিমের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। মানুষের মধ্যে কোন বিষয়ে বেশি প্রশ্ন রয়েছে, কোন ভুল ধারণা দূর করা দরকার এবং কোন তথ্য সহজ ভাষায় জানানো প্রয়োজন—এসব বিবেচনায় নিয়ে বিষয় নির্বাচন করা যেতে পারে। চিকিৎসক তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করবেন এবং যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত দল সেই তথ্য মানুষের বোধগম্য করে উপস্থাপন করবে।
একই সঙ্গে রোগীর গোপনীয়তা, সম্মতি এবং চিকিৎসকের পেশাগত সীমারেখা রক্ষা করাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। কোনো রোগীর অভিজ্ঞতা বা চিকিৎসাসংক্রান্ত বিবরণ প্রকাশের আগে যথাযথ অনুমতি নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
তাঁর মতে, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সহজ ভাষায় স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য পেলে মানুষ নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করতে, ভুল ধারণা যাচাই করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার পরামর্শ নিতে উৎসাহিত হন। তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক যোগাযোগের কাজ মানুষের হয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়; বরং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়া।
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়তে পারে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে। তবে সেটিকে প্রধান উদ্দেশ্য না করে তথ্যের যথার্থতা, মানুষের উপকার এবং বিষয়গুলো সহজে বোঝার সুযোগ তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যের চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল যোগাযোগের গুরুত্বও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সব তথ্য সমানভাবে নির্ভরযোগ্য নয়। এ অবস্থায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যাচাইকৃত, সহজবোধ্য ও দায়িত্বশীল তথ্য প্রকাশের সুযোগ রয়েছে।
মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুনের ভাষ্য, চিকিৎসকের দক্ষতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ চিকিৎসাসেবায়। তবে সেই দক্ষতা থেকে অর্জিত জ্ঞান যখন যথার্থতা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তখন তার সুফল চিকিৎসাকক্ষের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যসেবায় জ্ঞান আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা শুধু বিশেষজ্ঞের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষকেও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিকভাবে বুঝতে সহায়তা করে।