রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানি না, দেশের বাইরে ছিলাম: স্পিকার

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে চলমান আলোচনার মধ্যে থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দেশে ফিরে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। ফলে দেশে কী ঘটেছে বা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। দেশে ফেরার পর বিষয়টি জানতে পারবেন বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে চলা আলোচনা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, গণমাধ্যমে যেভাবে খবর এসেছে, তিনিও সেভাবেই শুনেছেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও মেডিকেল চেকআপ শেষ হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি দেশে ফিরেছেন।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিন মাসের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তার স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও চিকিৎসা শেষ হওয়ায় তিনি শুক্রবারই দেশে ফেরেন। তার আগাম প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।