দুই বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে ২০৮ নিয়োগ, ১,৪৬৪ পদোন্নতি; মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন রেকর্ড নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গত দুই বছরে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দুই বছরে সরাসরি ২০৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৪৬৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বন্দরের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বন্দর দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

                                                                 

গত ১১ আগস্ট ২০২৪ সালে বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, মনোবল বৃদ্ধি এবং কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২১ থেকে জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ১৪৪ জনকে এবং পদোন্নতি পেয়েছিলেন ৭৯৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অন্যদিকে, আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত মাত্র দুই বছরেই সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২০৮ জনকে এবং পদোন্নতি পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত মোট নিয়োগের প্রায় ৫৯ শতাংশ এবং মোট পদোন্নতির প্রায় ৬৫ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী দুই বছরে। কর্তৃপক্ষের মতে, এটি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক গতিশীলতা ও সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষ, যোগ্য ও প্রেরণাদায়ী জনবলই একটি আধুনিক বন্দরের প্রধান শক্তি। তাই স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কর্মীদের কর্মোদ্যম বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং বন্দরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও কার্যকর অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।