চট্টগ্রাম: কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টে চলমান মামলায় সরকারি আইনজীবীদের অসহযোগিতা ও দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামে অবস্থান ধর্মঘট করেছে আটটি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টায় নগরের চেরাগি পাহাড় চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেয় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, ইউনাইটেড সোস্যাল নেটওয়ার্ক, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন।
কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকারি আইনজীবীদের একটি অংশ দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। তারা অবিলম্বে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদীতে সাম্পান ও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— হাইকোর্টে চলমান জনস্বার্থ মামলায় দখলদারদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ডিআইজি ও এআইজিকে প্রত্যাহার, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করা এবং নদীতীরে দেশীয় প্রজাতির অন্তত কয়েক হাজার গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, “কর্ণফুলীর অবৈধ দখলদারদের রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও দখলদারিত্বের সংস্কৃতি বদলায়নি। আদালতে সরকারি অর্থে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা যদি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাহলে জনগণ তাদের মুখোশ উন্মোচন করবে।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্ণফুলী নদীর অবদান অপরিসীম। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ নদী রক্ষায় সরকার ও প্রশাসনের উদাসীনতা হতাশাজনক। কর্ণফুলীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে।”
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, “নতুন সরকারের নদী ও খাল রক্ষার ঘোষণায় আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু এখন যদি সরকারি আইনজীবীরাই দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে তা কর্ণফুলী রক্ষার আন্দোলনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।”
এসময় আরও বক্তব্য দেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি জানে আলম, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক কামাল পারভেজ, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল করিম বাপ্পি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লোকমান দয়াল, ইউনাইটেড সোস্যাল নেটওয়ার্কের পরিচালক আমির হোসেন, হস্তচালিত বড় সাম্পান মাঝি সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী, মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন রায় এবং সমাজসেবক আরমান হোসেন।
বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রামের প্রাণ ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই নদী রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অবৈধ দখল-দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।