নগরীর ২৫ ওয়ার্ডে বিনামূল্যে বর্জ্য সংগ্রহ শুরু করবে চসিক, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আরও ১৪ ফগার মেশিন আনছে
চট্টগ্রাম: নগরীর পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কর্ণফুলী নদীর দূষণ কমাতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ২৫টি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এ সেবার জন্য নগরবাসীর কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার নগর ভবনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির ১০ম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মেয়র বলেন, বর্তমানে নগরীতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহের বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই যত্রতত্র বর্জ্য ফেলছেন, যা নালা-নর্দমা ভরাট, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং কর্ণফুলী নদীর দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “বিনামূল্যে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনায় বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এসব বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হবে।”
সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে চট্টগ্রামে ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথাও জানান মেয়র। তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর ওপারে সম্ভাব্য একটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সরকারি জমি বরাদ্দের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে মেয়র জানান, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জুলাই মাসে বৃষ্টির কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, বর্তমানে কোতোয়ালী, বায়েজিদ, বন্দর, পাহাড়তলী, হালিশহর, বাকলিয়া ও আকবরশাহ এলাকাকে ডেঙ্গুর রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সকালে লার্ভিসাইড ও বিকেলে অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরও ১৪টি আধুনিক ফগার মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগরীর সেবার মান বাড়াতে প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় বিদ্যমান ৬টি জোনকে ৮টি জোনে উন্নীত করার প্রস্তাবও সভায় উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
ডিজিটাল নাগরিক সেবা প্রসঙ্গে মেয়র জানান, চসিকের নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা অ্যাপে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৮৬৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ২৩৮টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নাগরিকরা সরাসরি ছবি সংযুক্ত করে অভিযোগ জানাতে পারছেন, যা দ্রুত সমাধানে সহায়তা করছে।
এছাড়া নিবন্ধিত প্যাডেলচালিত রিকশার মালিকদের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিবেশবান্ধব ই-রিকশা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র। এতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা কমবে, চালকদের কর্মসংস্থান বজায় থাকবে এবং নগরীর যানজটও হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় নগরীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কার্যক্রম শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে স্মারক প্রকাশনা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
সভায় বিভিন্ন সেবা সংস্থার কর্মকর্তা, চসিকের বিভাগীয় প্রধান এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.