প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনিটরিং এর  ফলে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতেও চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা হয়নি– বললেন মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম, সোমবার:  টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাতের পরও চট্টগ্রাম নগরীতে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে এ পরিস্থিতি সম্ভব হয়েছে।

সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন শেষে মেয়র এ কথা বলেন। এ সময় তিনি খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে মনিটরিং করছেন। তাঁর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণে টানা বর্ষণের পরও নগরীতে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি।

পরিদর্শনকালে মেয়র চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি কর্পোরেশনের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে, যাতে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নালা-নর্দমা, খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে অতীতে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেন এবং নগরবাসীর যেকোনো অভিযোগ দ্রুত যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষা মৌসুমজুড়ে খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.