ক্রুড তেল সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন বন্ধ, তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) ক্রুড তেলের সংকটের কারণে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে সরকার জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে শোধনাগারটি চরম কাঁচামাল সংকটে পড়ে। সর্বশেষ চালান দেশে আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি, এরপর আর কোনো ক্রুড তেল আসেনি।
সংকট মোকাবেলায় কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং বিভিন্ন ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেডস্টক ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়। তবে এই প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে কর্মকর্তারা জানান, ডেডস্টকে ময়লা ও বর্জ্য থাকায় তা পাম্পে আটকে গিয়ে যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে।
ইআরএলের একজন কর্মকর্তা জানান, ট্যাংকের ডেডস্টক নিরাপদ সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় রোববার বিকাল থেকে পরিশোধন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।
সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে ইআরএল। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামানো হয়েছিল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে এনে ইআরএলে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এছাড়া ভারত ও চীন থেকে বড় পরিমাণে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।
সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে নতুন চালান আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরামকোর কাছ থেকে ১ লাখ টন ক্রুড তেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। আগামী ২১ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে এই চালানটি রওনা হওয়ার কথা রয়েছে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ টন ক্রুড তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।
কর্মকর্তারা জানান, ইআরএলের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চমূল্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৭টি জাহাজে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল এসেছে। এছাড়া ভারত থেকেও পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.